এক মাস পর ২৩ বছরের হয়ে যাবে সৌরব
সরকারের বয়স। নভেম্বর খুবই Odd একটা মাস। কোনো Mention এই মাসের কোথাও
থাকে না! মা প্রীতি আগামীকাল ঘুরতে যাবে কাল সকালেই। সম্ভবত রবিবার বিকেলে ফিরে
আসবে। মা-এখন শুনছি, বাবাকে
বলছে-“বাড়িতে বেশি দিন থাকবো না বেশি শান্তি সেবা করিও না!”
অনেকটাক্ষন অনেক স্তব্ধতা ছিল মাঝে, তখনই বাবা হালকা শব্দে-“কি!”
মায়ের মুখে বহুবার শুনেছি। ‘বেশি আহুটি যেন না হয়‘; এই ‘আহুটি‘ শব্দটার মানে আজাদী তাদের কাছে।
ধুর… এখানে এত গল্প করতে আসিনি। কি জন্য এসেছিলাম
সেটাই ভুলে গেলাম, গুলিয়ে ফেললাম। মারাত্মক
খিদে পেয়ে গিয়েছে। দমদমে থাকতে খালি পেটে ইউনিভার্সিটি ফেরত লুচি-তরকারি খাওয়ার
কথা মনে পড়ে গেল! রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কাঁচা লঙ্কাটা চেবানোটা আহা! ডিম সিদ্ধ খেতে ইচ্ছা করতো খুব শেষে। কিন্তু ওই যে, ছোট থেকে শুনে আসা “ডিম খেলে অসময়ে পেটব্যাথা
করে”।
পুরো দিন খালি পেট শহরের এক প্রান্ত
থেকে ফিরে এসে সেই সন্ধ্যে যখন তখন কিছু কিছুদের দেখতে পেতাম (এখন তার সেই দৃশ্যের
প্রচুর উন্নতি ঘটেছে আর সেটা নিয়ে পরে বলব, লিখবো)। সেই কিছু কিছুদের চেহারাগুলো দেখে কেন জানিনা অন্য
রকমের ‘বিতৃষ্ণা‘ জন্মেছিল। কার প্রতি সেটা অবশ্যই অজানা।
নিজের প্রতি আগে থেকেই যে ঘৃণা, যেই অবজ্ঞা যে অবহেলা যেই রকমের বিতৃষ্ণা ছিল, সেটাকে ছাপিয়ে গিয়েও এই বিতৃষ্ণা-‘কিছুদের‘ প্রতি বিতৃষ্ণাকে এতটাই বড় আকার দিতাম। দিনশেষে যদিও, শেষ যুদ্ধে আর দিনের বেশিরভাগ যুদ্ধের ফলাফলে জিতে যেত
নিজের প্রতি বিতৃষ্ণাটায়। ও… যেটা নিয়ে লেখার কথা একেবারে সবার প্রথমে ভেবে ঠিক করেছিলাম। ‘The
Trial’-র দুই নং চ্যাপ্টার শেষ। বইয়ের
প্রথম পাতাতে ‘২৪ সেপ্টেম্বর‘ লেখা আছে। মানে- সেদিন থেকে পড়ার ভাবনা, বইটা হাতে পাওয়ার পর প্রথমবার এসেছিলো। আজ ২৪ অক্টোবর আর, ওই তো আর একমাস পর… এত ভাট বকতে, ভাবতে পারা মানুষটার জন্মদিন।
আমি! এমনই! প্রথম থেকেই।
আবার গুলিয়ে ফেললাম, ‘আমার উদ্দেশ্যটা কী?’ ও হ্যাঁ… নভেম্বরকে গালিগালাজ দেওয়াটা! ছি! নভেম্বর? ওটা আবার কোনো মাস নাকি? তার আগের প্রতিবেশীকেই দেখো! অক্টোবর! ও কতটা জীবন্ত!
প্রচুর… বলার মতো না… নভেম্বর, রাতের কালো মরুভূমি; অক্টোবর, সদ্য ভোরের
আন্টার্কটিকা! অক্টোবর সূর্যের হিলিয়াম-হাইড্রোজেন; নভেম্বরকে খুঁজতে প্লুটো অবধি পৌছাতে পারার মতো মহাকাশযান
বানাতে লাগবে। থাক, তার তুলনায় সূর্য
অনেক কাছে। প্রচুর উজ্জ্বল আর সর্বদা উত্তপ্ত হলেও কখনোই হিংস্র নয়। আচ্ছা!
কিন্তু, প্লুটো ও তো হিংস্র
নয়!
কী অসম্ভব coincidence!
১০ই অক্টোবর ১৯৮৪… এর ও জন্মমাস অক্টোবর! এমন ভাবে লিখলাম (আমি মনে ভাবলাম) যেন সে আমার খুব ছোটবেলার
বন্ধু!
Pavel Durov! Telegram-এর founder CEO
কলকাতা থেকে ফিরছিলাম একরাতে
মোটামোটি দুই মাস আগেই, আগস্টে… ভেবেছিলাম… ইশঃ! যদি
বন্ধু হতো! যদি বন্ধু হতাম! একসাথে ‘Telegram’ found করতাম। ‘Vk’ found করতাম।
‘Vk’-কে নিয়েও এক কথা
মনে পরে যায়, খুব সুন্দর। ১৫০
টাকা দিয়ে কেনা Jane Austen এর ‘Persuasion’
না পড়ে ‘Vk’-তে গিয়েছিলাম ‘1984’-এর pdf খুঁজতে… sorry, Epub! সেগুলো ছিলো… কী বলবো… মানে, জীবনে এত অবধি ছুটে চলে আসার পর প্রাপ্তি। ওগুলোই ব্যাস! আমার এতো সূর্যের
কাছে গিয়ে কী দরকার! যদি তাপে পুড়ে যায়!
$11.5B এর দুইজন মালিক
হতো। আমি হয়তো পাঁচেই সন্তুষ্ট হয়ে যেতাম। আমার সমান সত্যিই চাইনা। পাঁচের মধ্যে
থেকে এক বা দুই বের করতাম আর পরের সকালেই ছোটবেলাকে ফিরিয়ে আনতে বেরিয়ে পড়তাম।
সত্যি! আমি অবশ্যই সেটাকে কাজে লাগাতাম এমন এক যন্ত্র, আধুনিক যন্ত্র, Supercomputer… যেটা রাতের
স্বপ্নকে ধরে দিতে সক্ষম; লোভ আরো বেড়ে গিয়ে হয়তো সেই আধুনিক যন্ত্র তৈরিতে আমার সমস্ত পুঁজিটায় ঢেলে
দিতাম।
এখন যখন লিখছি, অনেকটা রাত হয়ে গেছে। বেশি না, ঠিকঠাকভাবে বলতে গেলে রাত ৩ টে বেজে ১৭ মিনিট (অক্টোবর ২৫)।
অনেকটা লেখা, অনেকটা ভাবনাকে
উপেক্ষা করে এতদূর পৌঁছে গিয়ে যখন মনে অনেকপ্রকারের সাইরেন একসাথে বাজতে থাকে… আমি ছন্নছাড়া, দিশেহারা হয়ে উঠি। নির্দিষ্ট পথের খোঁজে, চাহিদায় বহুবার বেনিয়মি হয়ে পড়ি। অনেক পাঁচিল টপকে অন্য দেশে
পৌঁছে যায়। আলেকজান্ডার, নেপোলিয়নের মতো বিদেশভ্রমণ-আক্রমণের প্রক্রিয়ায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলি। খুবই
বিচ্ছিন্ন অনুভব হয়।
নভেম্বরের স্মৃতিগুলো ও বিচ্ছিন্ন, অনেক বেহিসেবি;
খাতার বাইরের, সবটাই। অক্টোবরেরগুলো কত আকর্ষণীয় আর ধারাবাহিক। অক্টোবর
আনন্দের মাস, নভেম্বর বিষাদের, অনুশোচনার। একটাতে কিন্তু আশাবাদী হওয়া যায়। সেটাকে ভেবে।
পরের বছরের আনন্দের মাসের অপেক্ষার শুরু পুনরায় নভেম্বরের দায়িত্বেই থাকে।
পাভেল দুরোভ, যাইহোক একটা নিজেই নিজের ছোটবেলার স্বপ্নকে পূরণ করতে
অনেকটা সক্ষম হয়েছে। জন্ম সোভিয়েতে, সেই কালে তো সেই দেশে অনেক নিষেধের ছড়াছড়ি, সবদিকে, পুরো দেশজুড়ে। Cold War! অনেককিছুই। ছোটবেলায়
সেই Oppressed State-এ থেকে থেকে
সে হয়তো নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা হিসেবে এই স্বপ্নটাই দেখেছিলো যে সে এমন এক মাধ্যম
তৈরী করবে যেখানে আত্মপ্রকাশ আর সেই প্রকাশকে গুরুত্ব দেওয়া মানুষগুলোর মধ্যে কোনো
তৃতীয় ব্যক্তি, সংস্থা, সরকার এসে নিশেধাজ্ঞা জারি করবার সাহস করবে না।
সে পেরেছে।
আমিও পেরে যেতাম। যদি আমি তার বন্ধু
হতাম! ছোটবেলার বন্ধু!