কখন কখন একজন মানুষকে তার মনের মধ্যে ঢুকতে হবে, সেখানে থেকে নিজের সাথে কথা, তর্ক, পরামর্শ দেওয়া-নেওয়া করতে হবে আর কখন কখন বাইরে বেরিয়ে আসল পৃথিবীতে অন্য মানুষের সাথে সেই একইরূপ কথাবার্তাতে অংশগ্রহণ করতে হবে তার সঠিক পরিচর্যা, এক বিষয় হিসেবে প্রত্যেক পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। প্রত্যেক বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, সর্বত্রই এই বিষয়ে পরিচর্যা সাথে আলোচনা করা উচিত।
Rational
or Non-essential! Whatever; আমি ভাবলাম express করি। করলাম। আর কী কাজ! মোটামুটি ক্লাস ৪-৫ এর অবধি নিজের চাহিদা, আচার-বিচার, জ্ঞান সম্বন্ধে ধারণা আছে-কোনটা কিরকম ছিলো।তার আগেরগুলো আবছা। নিজেকে সবক্ষেত্রেই উৎকৃষ্ট করে তোলার চাহিদাটা হয়তো ক্লাস ৯-১০ নতুবা তার কিছু আগের বা পরের সময় থেকেই।অস্থিরতা প্রচুর পরিমান, বলতে গেলে পাহাড় সমান! সূর্যাস্তে গ্রামের প্রান্তে থাকা একলা বাড়িটার আর সূর্যের মাঝখানে আসা পশ্চিমের সেই মস্ত বড়ো পাহাড়টার নাম ‘অস্থিরতা‘। বাড়িটার উঠোন কত অন্ধকারাচ্ছন্ন! অন্য বাড়িগুলো ইলেক্ট্রিসিটির মহিমায় আলোতে পরিপূর্ণ কিন্তু, ওই ‘প্রান্তিক‘-এর আলো হতে বঞ্চিত হতে হলো শুধুমাত্র ওই ‘অস্থিরতা‘-র জন্যই। খুবই নির্দয়ী সেই পাহাড়, কোনো ভালোলাগা, ভালোভাবা নেই ‘প্রান্তিকের’ প্রতি। পুজোর ৭ দিনের কত বাহারিকতা প্রায় পুরো গ্রামের সব কোণেই পৌঁছে যায়; কিন্তু, ‘প্রান্তিকের’ কাছে পৌঁছতে পৌঁছতে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়ে… শেষে, পৌঁছলেও সেই উচ্ছাস, উদাসীপনায় রূপান্তরিত হয়ে পড়ে।
অন্ধকারাবস্থা বজায় থাকে।
‘অস্থিরতাকে’ ঐখান থেকে উৎখাত করবার ‘প্রান্তিকের‘ একলা ক্ষমতা নেই। হ্যাঁ, সম্মিলিতভাবে খুব সহজেই সেটা সম্ভব হতো। সে যদি চাইতো বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে, বর্তমান মানুষের কিছু সম্মিলিত বুদ্ধি দিয়ে পাহাড়টাকে এক নিমেষে ধুলো বানিয়ে ফেলতে পারতো। ‘চাইতো‘… এটা বললে ভুল হবে… যদি পারতো…
পাশের ফাঁকা জমিতে প্রতি দুই-তিন দিন অন্তর দুই মাতালের মদের ঠেক বসে। তাদের এই বিষয় নিয়ে আলোচনা থেকেই ‘প্রান্তিক’ প্রযুক্তির ব্যাপারটা সম্পর্কে অনেককিছুই জানতে পেরেছে। বড়ো বড়ো পাহাড়-পর্বতের কোনো অস্তিত্বই সেই ভয়াবহ আর অনেক শাক্তিশালী মনুষ্যসৃষ্ট বিস্ফোরকগুলোর সামনে টিকে থাকে না। ‘Earth-cutting’, ‘Earth-drilling’, ‘Earth-excavating’… কত কত ইংরেজি আর আধুনিক নামকরণ। দুই মাতালের একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রাক্তন ছাত্র।
কীসব!
বাড়িটার প্রতি এতো অযত্ন, অবহেলা! অসংখ্য আগাছাতে পুরো বাড়িটা একেবারেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আগাছাগুলো খুবই আক্রমণাত্মক। বাড়ির সবটাতেই তাদের অস্তিত্ব আছে। অনেক পোকা-মাঁকড়, মাকড়শা, পিঁপড়ে, ছারপোকা, সাপ… অনেককিছুই… কেন্নো, উঁইপোকা! মানুষের পায়ের ছাপের জন্য বাড়িটার উঠোন যেন কত পুরোনো যুগ থেকেই আশার এক ধারা নিজের মধ্যে অনবরত বইয়ে দিয়ে যাচ্ছে। ধারা অব্যাহত, প্রথম থেকেই, প্রথম দিন থেকেই-যেদিন বাড়িটাকে তার মালিকের আর প্রয়োজন ছিল না।